ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বগুড়ার শিবগঞ্জে লিচু চুরির অভিযোগে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনঃ পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 26, 2026 ইং
বগুড়ার শিবগঞ্জে লিচু চুরির অভিযোগে শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনঃ পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:
গোলাম রব্বানী শিপন, শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ ফল চুরির মতো সামান্য অভিযোগে এক শিশুকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। লিচু চুরির অপরাধে এক শিশুকে রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। এরপর তারেক রহমানের নির্দেশে নির্যাতিত সেই অবুঝ শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের খোঁজ খবর নিতে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এবং নির্যাতিত শিশু কাওছার হোসেনকে ঈদ উপহার ও লিচু প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ দিন আগে দুপুরে শিবগঞ্জ উপজেলা পীরব সিহালী সরকারপাড়া গ্রামের রুবেল মন্ডলের পুত্র কাওছার হোসেন (১১) সে পেটে ক্ষুধার্ত নিয়ে একই এলাকার প্রভাবশালী এবিএম সাইফুজ্জামানের লিচু বাগান থেকে কয়েকটি লিচু পাড়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাগানের মালিক ও তার কর্মচারীরা শিশুটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। চুরির ‘শাস্তি’ হিসেবে তারা শিশুটিকে একটি গাছের সাথে শক্ত করে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। এতে তাদের মনের খায়েশ না মিটলে শিশুটিকে চোর সম্বোধন করে লেখা একটি কাগজ গলায় ঝুলিয়ে দেন। 
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি বারবার কান্নাকাটি করে সে লিচু চুরি করে নাই বলে ক্ষমা চাইলেও নির্যাতনকারীরা তার ওপর মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা দ্রুত ভাইরাল রূপ নেয়।
একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, "কয়েকটি লিচু চুরি করার অপরাধে একটি নিষ্পাপ শিশুর সাথে এমন বর্বর আচরণ কীভাবে সম্ভব?" মানবাধিকার কর্মী এবং সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে শিশু অধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক এই ঘটনায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন নির্যাতিত শিশুটির পাশে দাঁড়াতে। শিশুটির পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কথা জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী সেই পরিবারে অর্থ সহায়তা করেন। এটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধী ও তাদের সহায়তাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী দ্রুত সেখানে যান। ইতিমধ্যে এই বর্বরোচিত ঘটনার মূল হোতাসহ তাদের তালিকা করা হয়েছে। 
শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই আমরা শিশুটির বাড়ি পরিদর্শন করেছি। এবং পরিবারকে জরুরি আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আমরা পুরো পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।"
নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন দ্রুত ও মানবিক সাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষ। অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : সময়ের সংবাদ

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা